রাজ্যে গেরুয়া ঝড় তৃণমূলের গড় তছনছ করার পর দুই দিন নিশ্চুপেই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির জয়ের পর অন্যায় দলগুলি মোদীকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালেও, মোদীকে নিয়ে একটিও শব্দ খরচ করতে দেখা যায়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই তিনি শনিবার এলেন সংবাদ মাধ্যমের সামনে। শুধু এলেন নয়, বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর রাগ ক্ষোভ মিলিত হয়ে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটালেন তিনি। নির্বাচন ইসুতে শুরুতেই তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মূল কারিগরি ছিল নির্বাচন কমিশন। ‘ওপেন গেম’ খেলেছে ওরা।পাশাপাশি, তৃণমূলের হারের পিছনে যে মুসলিম তোষণের কথা বার বার উঠে এসেছে। সে প্রসঙ্গেও মুখ খুলে তিনি বলেন, ‘আমি তো মুসলিম তোষণ করি। ১০০ বার ইফতারে যাব।’
এদিন দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক সেরেই সাংবাদিক সম্মেলনে বসেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখানে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি। গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় টাকার খেলা চলেছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। মমতা বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে চেয়েছিলাম। আমি দলের বৈঠকে বলেছিলাম। তৃণমূল সুপ্রিমো হিসেবে থাকতে চাই। কিন্তু, কেউ মানল না। আমার নিজের হাতে তৈরি এই দল, শুধু দলীয় সুপ্রিমো হিসেবে কাজ করতে চেয়েছিলাম। চেয়ারের কথা আমি ভাবি না।’ এরপরই তিনি বলেন, ৩০ তারিখ ফের বৈঠক করব। কিন্তু পাশ থেকে দলের নেতা বলেন, ৩০ তারিখে ইফতার আছে দিদি। সঙ্গে সঙ্গে মমতা বলেন, ওহো ৩০ তারিখ ইফতার আছে, ওইদিন ওখানে উপস্থিত থাকতে হবে আমাকে। একইসঙ্গে বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে মমতা বলেন, ‘আমি তো মুসলিম তোষণ করি, ১০০ বার ইফতারে যাব। যে গোরু দুধ দেয় তার লাথ খাওয়া ভালো।’
একইসঙ্গে, বিজেপির এই বিশাল জয়কে সন্দেহের তালিকায় রেখে মমতা বলেন, রাজীব গান্ধি বিশাল ব্যবধানে জিতেছিলেন। কেউ প্রশ্ন তোলেনি। অটলজিও জিতেছিলেন, কেউ প্রশ্ন তোলেনি। এত ভোটে জিতেছে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। রাজস্থান যেখানে সরকার বদল হয়েছে সেখানে একটাও আসন পেল না কেউ। মধ্যপ্রদেশে মাত্র ১ টা। আমার মনে হচ্ছে আগে থেকে ইভিএম প্রোগামিং করা ছিল। বিদেশেরও হাত আছে এসবের পিছনে। একা হয়ে যেতে রাজি আছি। কিন্তু, অপ্রিয় সত্যি কথা বলব। এছাড়াও রাজ্যে তৃণমূলের এই ব্যর্থতার পর দলীয় পদে বেশ কিছু পরিবর্তনও আনেন মমতা।
0 Comments